মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০

বিআইডব্লিউটিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক ২৮-০১-২০২০ তারিখ, মঙ্গলবার, নারায়নগঞ্জ নদী বন্দর টার্মিনাল ও টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শণ করেন


প্রকাশন তারিখ : 2020-01-28

 

বিআইডব্লিউটিএ’র নবনিযুক্ত  চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক ২৮-০১-২০২০ তারিখ, মঙ্গলবার, নারায়নগঞ্জ নদী বন্দর টার্মিনাল ও টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শণ করেন ।

 

তিনি নারায়নগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণের সাথে এক মত বিনিময় সভায় মিলিত হন । তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ নামকরণের পূর্বে সোনার গাঁ ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী।  এ অঞ্চলের জামদানি ও মসলিনের কাপড় তৈরির ইতিহাস প্রায় সাড়ে ৪ শত বছরের পুরোনো। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল আদমজী পাটকল নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ছিল যা বর্তমানে বন্ধ করে আদমজী ইপিজেড গড়ে তোলা হয়েছে।

 

পলাশী যুদ্ধে বাংলার পরাজয়ের পর পর ইংরেজরা দল বেঁধে এ অঞ্চলে আসতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের আশায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে।  সে সময় এ অঞ্চল পাট, লবণ ও বিভিন্ন ধরনের খাবার মসলার জন্য বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছিল।

 

 ইংল্যান্ডের টেমস নদীর পর পৃথিবীর দ্বিতীয় ‘হারবার’ বেষ্টিত শান্ত নদী শীতলক্ষ্যা । এক সময় ইংল্যান্ডের ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধ তৈরির কাজে এই নদীর স্বচ্ছ সুশীতল পানি ব্যবহার করতো।  বর্তমানেও নদীর উভয় তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।

 

শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সবচেয়ে বড় নদী বন্দর । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌবিহারে বেরিয়ে এ বন্দরে আগমন করেছিলেন । তিনি বলেন, ভৌগোলিক, বাণিজ্যিকভাবে এ বন্দরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি । তাই কোনো ভাবেই অবহেলায় ফেলে রাখার সুযোগ নেই । বন্দরটির জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে । বন্দরের মাধ্যমে  এ অঞ্চলের ইতিহাসেকে সংরক্ষণ করতে হবে ।

 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এক সময়ের স্বচ্ছ, শীতল শীতলক্ষ্যার পানি আজ মানুষের ব্যবহারের অনুপযুক্ত । ভারী শিল্প কারখানাগুলি থেকে নির্গত দূষিত শিল্প বর্জ্য এবং সিটি কর্পোরেশনের সোয়ারেজ বর্জ্যের বাগাড়ে পরিণত হয়েছে এ নদী । আমাদের অযত্ন, অবহেলা এবং নদীকে অবজ্ঞা করার ফলে বহু  জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে । নদী আজ মৃত প্রায় । দূষন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।

 

তবে আশার কথা এই যে,   এ নদীর পানিকে দূষণমুক্ত করে পুনরায় শীতলক্ষ্যা নদীর স্বচ্ছ শীতল প্রবাহ যেভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে  ইতোমধ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কারযক্রম গ্রহণ করেছে  । এ ব্যাপারে একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে  এবং সমস্যা সমাধানে  একটি কারযকরী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । তারই অংশ  নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে  বিআইডব্লিউটিএ’র  বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নাধীন এবং চলমান ।  খুব শীর্ঘ্রই নদীর তলদেশ থেকে বর্জ্য তোলার জন্য গ্রেব ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান । এটি সংগ্রহ  করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগবে ।

 

কমডোর গোলাম সাদেক পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকলকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহবান জানান । তিনি বলেন, পরিবার থেকে  শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে । পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি । পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ও তাত্ত্বিক ও ধারাবাহিক শিক্ষা কারযক্রম চালু করতে হবে । সামষ্টিকভাবে  সকলের এগিয়ে আসা উচিত। ব্যবসায়ীদের ও অনেক দায়িত্ব রয়েছে । আমাদের সন্তানদেরকে একটি পরিচ্ছন্ন নিরাপদ সেনার বাংলায় রেখে যেতে চাই ।

 

তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করে তার বক্তব্য শেষ করেন ।  এ সময় তাঁর সাথে বিআইডব্লিউটিএ’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ ও বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) এর নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ছবি দেখুন...

 

 

 


Share with :

Facebook Facebook